মহাকবি কালিদাসের সাহিত্যকৃতি
·
পরিচয়: কালিদাস ছিলেন ভাস পরবর্তী যুগের একজন বিখ্যাত নাট্যকার ।
·
উপাধি: মহাকবি কালিদাসকে ‘সরস্বতীর বরপুত্র ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় ।
·
আবির্ভাব কাল: তাঁর আবির্ভাব কাল খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দী ।
·
সাহিত্যকৃতি: মহাকবি কালিদাসের ৭টি প্রধান সাহিত্যকৃতি পাওয়া যায় ।
o মহাকাব্য: কুমারসম্ভবম ও রঘুবংশম ।
o গীতিকাব্য: মেঘদূতম ও ঋতুসংহারম ।
o নাটক: মালবিকাগ্নিমিত্রম,
বিক্রমোর্বশীয়ম এবং অভিজ্ঞানশকুন্তলম ।
o অন্যান্য (বহু বিতর্কিত গ্রন্থ): নলোদয়, শ্রুতবোধ ও শৃঙ্গারতিলকম ।
*নাটকসমূহের বিস্তারিত বিবরণ*
১. মালবিকাগ্নিমিত্রম্
·
পর্যায়: এটি কালিদাসের প্রথম বয়সের রচনা ।
·
অঙ্কঃ ৫ টি
·
শ্রেণীঃ নাটক
·
উপজীব্য বিষয় ঃ পুরান ও শুঙ্গবংশের কাহিনী
·
চরিত্রসমূহ:
o নায়ক: বিদিশার রাজা অগ্নিমিত্র ।
o নায়িকা: বিদর্ভরাজকন্যা মালবিকা ।
o বিদূষক: গৌতম ।
o রানি: ধারিণী ও ইরাবতী ।
o অগ্নিমিত্রের পুত্র:
বসুমিত্র ।
·
রস: শৃঙ্গার রস ।
·
নামকরণ: অগ্নিমিত্রের সঙ্গে মালবিকার প্রেম ও পরিণয় এই নাটকের মুখ্য বিষয়,
তাই এর নাম মালবিকাগ্নিমিত্রম ।
·
বিশেষ বৈশিষ্টঃ শুঙ্গ বংশের রাজা পুস্পমিত্র
,অগ্নিমিত্র ও বসুমিত্র ,অগ্নিমিত্রে
অমাত্য বাহতক । রাজশ্যালক বীরসেন ,বিদর্ভরাজ যজ্ঞসেন এবং জ্ঞাতি ভ্রাতা মাধব সেন
এই কয়টি ঐতিহাসিক চরিত্র ছাড়া সব ঘটনা কবিকল্পিত ।
২. বিক্রমোর্বশীয়ম্
·
পর্যায়: এটি কবির মধ্যবয়সের রচনা ।
·
অঙ্কঃ ৫ টি
·
শ্রেণীঃ ত্রোটক
·
উপজীব্য বিষয় : ঋগ্বেদের সংবাদসূক্ত, পুরাণ ও মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে ।
·
চরিত্রসমূহ:
o নায়ক: প্রতিষ্ঠানপুরের রাজা পুরূরবা ।
o নায়িকা: অপ্সরা উর্বশী ।
o বিদূষক: মানবক ।
o পুরূরবার পত্নী: ঔশীনরী ।
o পুরূরবার পুত্র: আয়ু ।
·
রস: শৃঙ্গার রস ।
·
নামকরণ: পুরুরবা (বিক্রম)
ও ঊর্বশীর প্রেমকাহিনী এই নাটকের বিষয়বস্তু ফলে এই নামকরণ ।
·
বিশেষ বৈশিষ্টঃ বিয়োগান্তক কাহিনীর মিলনাত্মক রুপ দান ।
৩. অভিজ্ঞানশকুন্তলম্
·
পর্যায়: এটি কালিদাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকৃতি । এর চতুর্থ অঙ্কটি
সর্বশ্রেষ্ঠ । এটি কালিদাসের শেষ বয়সের রচনা ।
·
অঙ্ক সংখ্যা: ৭টি ।
·
শ্রেণীঃ নাটক
·
উপজীব্য বিষয় : মহাভারতের আদিপর্ব ও পদ্মপুরাণ ।
·
চরিত্রসমূহ:
o নায়ক: হস্তিনাপুরের রাজা দুষ্যন্ত ।
o নায়িকা: আশ্রম কন্যা শকুন্তলা ।
o শকুন্তলার দুই সখী: প্রিয়ংবদা ও অনসূয়া ।
o শকুন্তলার আসল
পিতা-মাতা: মহর্ষি বিশ্বামিত্র ও মেনকা ।
o শকুন্তলার পালিত পিতা-মাতা : মহর্ষি কণ্ব ও গৌতমী ।
o দুষ্যন্ত ও শকুন্তলার পুত্র: সর্বদমন বা ভরত ।
o বিদূষক: মাধব্য ।
o দুষ্যন্তের পত্নীর নামঃ হংসপদিকা ও বসুমতি
o রসঃ- শৃঙ্গার
·
নামকরণ: ‘অভিজ্ঞান’ বা স্মারক চিহ্নের দ্বারা শকুন্তলার স্মৃতি রাজার মনে
জাগরিত হয়েছে, তাই এই নামকরণ ।
·
বিশেষ বৈশিষ্টঃ বিরহানলে পুড়ে লৌকিক প্রেমকে দিব্য
স্বর্গীয় প্রেমে উত্তরণ ।
প্রশ্নোত্তর
পর্ব
১) দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে কী চিহ্ন দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ অঙ্গুরীয় বা আংটি ।
২) ‘অভিজ্ঞান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ স্মারক চিহ্ন ।
৩) শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্যন্তের মিলন কোথায় হয়?
উত্তরঃ মারীচ ঋষির আশ্রমে ।
৪) শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ মহর্ষি দুর্বাসা ।
৫) আংটিটি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল?
উত্তরঃ শচী তীর্থে ।
৬) রাজা ও শকুন্তলার বিবাহ কোন মতে হয়?
উত্তরঃ গান্ধর্ব মতে ।
৭) অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকের কুলপতি কে ?
উত্তরঃ মহর্ষি কণ্ব
৮)দুষ্যন্ত যখন কণ্বের আশ্রমে গিয়েছিলেন তখন
কণ্ব কথায় ছিলেন ?
উত্তরঃ সোমতীর্থে

0 Comments